বাক্যতত্ত্ব (Syntax)

বাক্যতত্ত্ব (Syntax)

বাক্যতত্ত্ব ভাষার বৃহত্তর একক—বাক্যের গঠন, তার উপাদানসমূহের বিন্যাস, সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ধরনের নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করে। এটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাকরণ থেকে শুরু করে আধুনিক বর্ণনামূলক এবং রূপান্তরমূলক-সৃজনমূলক ব্যাকরণে বিবর্তিত হয়েছে। নীচে দুটি বই থেকে এই অধ্যায়ের সারাংশ দেওয়া হল।

ভাষার তত্ত্ব ও বাংলা ভাষা (সুভাষ ভট্টাচার্য) – পৃ. ৮৯-৯৯

এই অধ্যায়ে বাক্যতত্ত্বের মূল ধারণা, বাক্যের সংজ্ঞা এবং গঠন বিশ্লেষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিষয়বস্তু:

  • বাক্যের সংজ্ঞা এবং প্রকারভেদ: বাক্য হল ভাষার স্বাধীন একক যা পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। সরল, জটিল এবং যৌগিক বাক্যের উদাহরণসহ আলোচনা। উদাহরণ: “রাম বই পড়ে” (সরল বাক্য)।
  • অব্যবহিত গঠনগত উপাদান (Immediate Constituent Analysis): বাক্যকে ধাপে ধাপে বিভাজন করে ক্ষুদ্রতর উপাদানে বিশ্লেষণ। উদাহরণ: “পুরোনো বইগুলো পড়ো” → “পুরোনো বইগুলো” (নামপদ-গুচ্ছ) + “পড়ো” (ক্রিয়া)।
  • পদক্রম (Word Order): বাংলায় সাধারণত কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া ক্রম (SOV), যা ইংরেজির SVO থেকে পৃথক। বিশেষ ক্ষেত্রে (কবিতা বা জোরার্থে) ক্রম পরিবর্তন হয়।
  • চমস্কিয়ান রূপান্তরমূলক ব্যাকরণ (TG Grammar): গভীর গঠন (Deep Structure) vs. বাহ্যিক গঠন (Surface Structure), সক্ষমতা (Competence) vs. সম্পাদন (Performance)। উদাহরণ: “রাম সীতাকে ভালোবাসে” এর গভীর গঠন ভাষা-সহজাত জ্ঞান থেকে উদ্ভূত।
  • সেম্যান্টিক্সের সাথে সম্পর্ক: বাক্যের অর্থ কীভাবে গঠিত হয়, অস্পষ্টতা (Ambiguity) এড়ানোর উপায়।
প্রধান ধারণাউদাহরণব্যাখ্যা
বাক্যের বিভাজনরাম বই পড়েকর্তা (রাম) + কর্ম (বই) + ক্রিয়া (পড়ে)
পদক্রমের বৈচিত্র্যভালোবাসে রাম সীতাকেজোরার্থে পরিবর্তন, কিন্তু সাধারণত SOV
গভীর গঠনসে গেল নাগভীরে: সে গেল + না (নেতিবাচকতা)

এই অধ্যায় বাংলা বাক্যের গঠনকে ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মিলিয়ে দেখায়।

সাধারণ ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষা (ড. রামেশ্বর শা) – পৃ. ৪২৪-৪৫০

এই অধ্যায়ে বাক্যতত্ত্বকে ঐতিহ্যবাহী এবং বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করা হয়েছে। প্রধান বিষয়বস্তু:

  • বাক্যের সংজ্ঞা: বাক্য হল স্বাধীন একক যা নির্বাচিত উপাদানের বিন্যাস, পরিবর্তন এবং সুরের মাধ্যমে গঠিত। উদাহরণ: “রাম বই পড়ে”।
  • ঐতিহ্যবাহী বাক্যতত্ত্ব: বাক্যকে উদ্দেশ্য (Subject) এবং বিধেয় (Predicate) ভাগে ভাগ করা। সরল, জটিল এবং যৌগিক বাক্যের শ্রেণীবিভাগ। পদক্রম: কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া (SOV)।
  • বর্ণনামূলক বাক্যতত্ত্ব: অব্যবহিত গঠনগত উপাদান (IC) দিয়ে বিশ্লেষণ। অন্তঃকেন্দ্রিক (Endocentric) vs. বহিঃকেন্দ্রিক (Exocentric) গঠন। উদাহরণ: “ভালো ছেলেরা” (অন্তঃকেন্দ্রিক, ‘ছেলেরা’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত যায়)।
  • বাক্যগঠনের প্রযুক্তি (Syntactic Devices): সম্পত্তি (Concord), যুক্তি (Juxtaposition), নিয়ন্ত্রণ (Government), সুর (Intonation)। বাংলায় কর্তা-ক্রিয়ার পুরুষের সম্পত্তি (যেমন: আমি যাই)।
  • বাংলা বাক্যের বৈশিষ্ট্য: পদক্রমের স্বাধীনতা, নেতিবাচকতায় ‘না’-র অবস্থান। ইংরেজি/জার্মান থেকে পার্থক্য (যেমন প্রশ্নবোধক বাক্যে ক্রিয়া স্থানান্তর হয় না)।
প্রধান ধারণাউদাহরণব্যাখ্যা
অব্যবহিত গঠনগত উপাদান (IC)রাম যায়রাম (কর্তা) + যায় (ক্রিয়া)
অন্তঃকেন্দ্রিক গঠনভালো বই‘বই’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত যায়, অর্থ রাখে
বহিঃকেন্দ্রিক গঠনতুমি পড়োএকা ‘তুমি’ বা ‘পড়ো’ বাক্য হয় না (বিবৃতিমূলক ক্ষেত্রে)
সম্পত্তি (Concord)তুমি যাওকর্তা-ক্রিয়ার পুরুষ মিল

বাক্যতত্ত্ব (Syntax)

বাক্যতত্ত্ব (Syntax) বাক্যতত্ত্ব ভাষার বৃহত্তর একক—বাক্যের গঠন, তার উপাদানসমূহের বিন্যাস, সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ধরনের নিয়মাবলী…

Read More

রূপতত্ত্ব (Morphology)

রূপতত্ত্ব (Morphology) ভাষাবিজ্ঞানের ধ্বনিতত্ত্বের পরবর্তী অধ্যায় রূপতত্ত্ব, যা ভাষার শব্দগঠন, রূপবৈচিত্র্য এবং ব্যাকরণিক সংবর্ধন (grammatical…

Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *