স্বামী বিবেকানন্দ – প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য : একটি বিশদ সারসংক্ষেপ

স্বামী বিবেকানন্দ – প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য : একটি বিশদ সারসংক্ষেপ

স্বামী বিবেকানন্দের “প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য” প্রবন্ধটি প্রাচ্য (ভারত) এবং পাশ্চাত্য (ইউরোপীয়) সভ্যতার একটি গভীর, তুলনামূলক এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। এই দস্তাবেজটি উক্ত প্রবন্ধের মূল ধারণা, কেন্দ্রীয় যুক্তি এবং সিদ্ধান্তগুলিকে একত্রিত করে। প্রবন্ধের প্রধান উদ্দেশ্য হলো পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ এবং ভারতের রক্ষণশীল গোঁড়ামি—এই দুই চরমপন্থী ধারণার বাইরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথনির্দেশ করা।

বিবেকানন্দের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, প্রতিটি সভ্যতার একটি নিজস্ব ‘জাতীয় ভাব’ বা জীবন-উদ্দেশ্য রয়েছে। ভারতের জাতীয় জীবনের মূল ভিত্তি হলো আধ্যাত্মিকতা এবং অন্তর্জগতের সাধনা, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ‘মোক্ষ’ বা মুক্তি। অন্যদিকে, পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি হলো বহির্জগতের উন্নতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা এবং ঐহিক ভোগ। তিনি দেখিয়েছেন যে উভয় সভ্যতা একে অপরকে প্রায়শই ভুল ও বাহ্যিকভাবে বিচার করে; পাশ্চাত্য ভারতকে অপরিচ্ছন্ন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনে করে, আর ভারত পাশ্চাত্যকে জড়বাদী ও অসুরপ্রকৃতির বলে গণ্য করে।

বিবেকানন্দ ভারতের তৎকালীন সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে ‘ধর্ম’ (কর্ম ও সামাজিক কর্তব্য) থেকে সরে গিয়ে সকলের জন্য ‘মোক্ষ’-এর উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন। তিনি ‘গীতা’-র উদ্ধৃতি দিয়ে শক্তি, কর্মোদ্যম (‘রজোগুণ’) এবং স্বধর্ম পালনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, কারণ ভোগ না হলে প্রকৃত ত্যাগ সম্ভব নয়।

প্রবন্ধটি উভয় সংস্কৃতির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, যেমন—পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক এবং সামাজিক রীতিনীতির বিস্তারিত তুলনা করে। তিনি দেখিয়েছেন যে, ভারতীয়রা অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিতে মনোযোগী হলেও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতায় উদাসীন, যা পাশ্চাত্যের ঠিক বিপরীত। পরিশেষে, তিনি একটি সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে ভারত পাশ্চাত্যের কাছ থেকে কর্মশক্তি, সংগঠন এবং বিজ্ঞানমনস্কতা গ্রহণ করবে এবং পাশ্চাত্য ভারতের কাছ থেকে আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা নেবে। তাঁর চূড়ান্ত বার্তা হলো, ভারতীয়দের নিজেদের জাতীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে, শক্তি অর্জন করে এবং অন্ধ অনুকরণ ত্যাগ করে ‘মানুষ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

“প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য” প্রবন্ধটি প্রথম ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এর পুনঃমুদ্রণের ভূমিকাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই রচনাটি স্বামী বিবেকানন্দের গভীর পাণ্ডিত্য এবং দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। সেই সময়ে ভারতীয় সমাজে দুটি প্রধান বিপরীতমুখী চিন্তাধারা বিদ্যমান ছিল:

  1. প্রথম দল: যারা পাশ্চাত্যকে সম্পূর্ণরূপে অনুকরণীয় মনে করত এবং বিশ্বাস করত যে পাশ্চাত্যের সবকিছুই নিখুঁত ও সর্বাঙ্গসুন্দর, আর দেশীয় কোনো কিছুর মধ্যেই ভাববার বা দেখবার মতো কিছু নেই।
  2. দ্বিতীয় দল: যারা এর ঠিক বিপরীত মত পোষণ করত এবং মনে করত যে হিন্দু সমাজ ও তার প্রথা সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন এবং পাশ্চাত্য সভ্যতা থেকে শেখার কিছুই নেই।

স্বামী বিবেকানন্দের এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো, এই দুই চরম ভাবধারার সংঘাত থেকে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের মুক্ত করে একটি সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে চালিত করা। তিনি কোনো একটি পক্ষকে খর্ব না করে, উভয় সভ্যতার শক্তি ও দুর্বলতা বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পারস্পরিক ভ্রান্ত ধারণা

বিবেকানন্দ দেখিয়েছেন যে উভয় সভ্যতা একে অপরের সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করে, তা মূলত ‘বহির্দৃষ্টি’ বা বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং তা প্রায়শই অসম্পূর্ণ ও ভ্রান্ত।

  • পাশ্চাত্যের চোখে ভারত: ইউরোপীয়দের দৃষ্টিতে ভারতীয়রা হলো—
    • দাসত্বে অভ্যস্ত, উদ্যমহীন, আশাহীন এবং দুর্বল।
    • কুসংস্কারাচ্ছন্ন, নৈতিক মেরুদণ্ডহীন এবং অপরিচ্ছন্ন।
    • ইউরোপীয় পর্যটকরা ভারতের জীর্ণ কুটির, দারিদ্র্য এবং আবর্জনা দেখে এখানকার মানুষদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
  • ভারতের চোখে পাশ্চাত্য: ভারতীয়দের দৃষ্টিতে পাশ্চাত্যবাসীরা হলো—
    • অসুর প্রকৃতির, যারা মদ্যপান, কামুকতা এবং জড়বাদে মত্ত।
    • অশুচি, আচারহীন এবং পরধন অপহরণকারী।
    • তারা পরলোকে বিশ্বাসহীন এবং দেহকেই আত্মা বলে মনে করে।

বিবেকানন্দ এই দুই চরম ধারণাকেই বুদ্ধিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, এই বাহ্যিক আচরণের আড়ালে প্রতিটি জাতির একটি নিজস্ব ‘জাতীয় ভাব’ রয়েছে, যা তার অস্তিত্বের মূল কারণ।

জাতীয় জীবনের মূল ভিত্তি

প্রবন্ধটির অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা হলো প্রতিটি জাতির একটি নিজস্ব জীবন-উদ্দেশ্য বা মেরুদণ্ড রয়েছে। এই মূল ভিত্তির উপর আঘাত এলে সেই জাতির পতন অবশ্যম্ভাবী।

  • ভারতের মূল ভিত্তি: পারমার্থিক স্বাধীনতা বা মুক্তি (মোক্ষ)। বৈদিক, জৈন, বৌদ্ধ, অদ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত বা দ্বৈত—ভারতের সমস্ত দর্শন ও ধর্ম এই এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। বিবেকানন্দের মতে, এই আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি অক্ষুণ্ণ ছিল বলেই মুঘল সাম্রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, কারণ তারা সরাসরি ধর্মে আঘাত করেনি। কিন্তু আওরঙ্গজেব যখনই এই ভিত্তিতে আঘাত করলেন, তখনই মুঘল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হলো।
  • ফ্রান্সের মূল ভিত্তি: রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং সাম্য। ফরাসি জাতি করভার বা অন্যান্য অত্যাচার সহ্য করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলে তারা উন্মত্তের মতো প্রতিরোধ করে।
  • ইংল্যান্ডের মূল ভিত্তি: ব্যাবসাবুদ্ধি এবং অধিকারের বিভাজন। ইংরেজ জাতি রাজা বা অভিজাতদের শাসন মেনে নেয়, কিন্তু যখনই তাদের অর্থ বা বাণিজ্যিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়, তখনই তারা বিদ্রোহ করে।

ধর্ম বনাম মোক্ষ: ভারতের অবক্ষয়ের কারণ বিশ্লেষণ

বিবেকানন্দ ভারতের সামাজিক দুর্গতির একটি মূল কারণ হিসেবে ধর্ম ও মোক্ষের ধারণার মধ্যেকার ভারসাম্যহীনতাকে চিহ্নিত করেছেন।

  • ধর্ম: এর অর্থ হলো কর্মের মাধ্যমে ইহলোকে ও পরলোকে সুখভোগের চেষ্টা। এটি মানুষকে কর্মশীল ও উদ্যমী করে তোলে।
  • মোক্ষ: এর অর্থ হলো প্রকৃতির বন্ধন থেকে মুক্তি এবং সকল প্রকার দাসত্ব (সুখের ও দুঃখের) থেকে মুক্ত হওয়া।

তাঁর মতে, বৌদ্ধধর্মের পরবর্তী সময়ে ভারতে একটি বড় ভুল হয়েছিল, যেখানে গৃহস্থ-সাধারণ নির্বিশেষে সকলের জন্য মোক্ষকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রচার করা হয়। এর ফলে মানুষ নিজেদের ‘স্বধর্ম’ অর্থাৎ সামাজিক ও পারিবারিক কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, যা জাতীয় জীবনে এক প্রকার জড়ত্ব বা ‘তমোগুণ’ নিয়ে আসে। তিনি ‘গীতা’-র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন:

“ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ পার্থ” (হে পার্থ, কাপুরুষ হয়ো না) “তস্মাত্ত্বমুত্তিষ্ঠ যশো লভস্ব” (অতএব তুমি ওঠো এবং যশ লাভ করো)

তাঁর যুক্তি হলো, আগে কর্মের মাধ্যমে জগৎকে ভোগ করতে হবে, তারপরই প্রকৃত ত্যাগের অধিকার জন্মায়। কর্মহীন বৈরাগ্য আসলে তমোগুণেরই নামান্তর।

সাংস্কৃতিক ও সামাজিক রীতিনীতির তুলনা

প্রবন্ধে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দৈনন্দিন জীবনের নানা দিকের একটি বিশদ ও રસগ্রাহী তুলনা করা হয়েছে।

বিষয়প্রাচ্য (ভারত)পাশ্চাত্য (ইউরোপ)
পরিচ্ছন্নতা (শৌচ)অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি: শরীর ও মন শুদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয় (যেমন, স্নান, জলশৌচ)। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা (রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি) বিষয়ে উদাসীনতা দেখা যায়।বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা: পোশাক, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট অত্যন্ত পরিষ্কার রাখা হয়। কিন্তু দৈনন্দিন স্নানের অভ্যাস নেই বললেই চলে, যা অভ্যন্তরীণ শুদ্ধির অভাব নির্দেশ করে।
খাদ্যাভ্যাস (আহার)শস্য-প্রধান আহার (ভাত, রুটি)। রান্না অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে করার নিয়ম আছে। তবে ভাজাভুজি (লুচি, কচুরি) এবং ময়রার দোকানের খাবারকে তিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেছেন।মাংস-প্রধান আহার। রুটি বা ভাত এখানে চাটনির মতো ব্যবহৃত হয়। রান্নার পদ্ধতি প্রায়শই অপরিচ্ছন্ন, কিন্তু পরিবেশন অত্যন্ত পরিপাটি।
পোশাক (পোষাক)পোশাক (শাড়ি, ধুতি) ঢিলেঢালা এবং সুন্দর, কিন্তু কাজকর্মের জন্য সর্বদা উপযোগী নয়। অলঙ্কারের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ দেখা যায়।পোশাক আটোসাঁটো এবং কাজের জন্য উপযোগী। পোশাকের মাধ্যমে ভদ্রতা ও সামাজিক মর্যাদা প্রকাশের উপর খুব জোর দেওয়া হয়। ‘ফ্যাশন’-এর ধারণা এখানে প্রবল।
সামাজিক আচারগুরুজনদের সামনে প্রেম-প্রণয়ের আলোচনা বা ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ করা লজ্জার বিষয়। কিন্তু লোকসম্মুখে শারীরিক পরিচ্ছন্নতার কাজ (যেমন, দাঁত মাজা) করা স্বাভাবিক।পরিবারে প্রেম-প্রণয়ের আলোচনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু মলমূত্র ত্যাগের মতো শারীরিক ক্রিয়ার কথা উল্লেখ করাও চরম অভদ্রতা বলে গণ্য হয়।

সভ্যতার বিবর্তন এবং জাতিগত ইতিহাস

বিবেকানন্দ আধুনিক পরিণামবাদের (Evolution Theory) সঙ্গে ভারতীয় দর্শনের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, এক অখণ্ড সত্তা থেকেই যে বহুর বিকাশ, এই ধারণা ভারতীয় দর্শনে নতুন নয়। তিনি এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন যে ইউরোপীয় সভ্যতা মূলত ‘অসুর’ (বর্বর, পশুপালক, যুদ্ধপ্রিয়) এবং ‘দেবতা’ (সভ্য, কৃষিজীবী) এই দুই প্রকার জাতির সংমিশ্রণ ও সংঘর্ষের ফল।

তিনি ইউরোপীয় পণ্ডিতদের সেই মতবাদকে তীব্রভাবে খণ্ডন করেছেন, যেখানে বলা হয় আর্যরা বিদেশ থেকে এসে ভারতের আদিবাসীদের ধ্বংস করে সভ্যতা স্থাপন করেছিল। তিনি ‘রামায়ণ’-এর উদাহরণ দিয়ে দেখান যে, শ্রীরামচন্দ্র দক্ষিণের জাতিদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেছিলেন, তাদের ধ্বংস করেননি। তাঁর মতে, আর্য সভ্যতার মূল ভিত্তি ছিল সকলকে নিজের সমান করে নেওয়া, দুর্বলকে রক্ষা করা; অন্যদিকে ইউরোপীয় সভ্যতার উপায় হলো দুর্বলকে নির্মূল করে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখা।

সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশ

“প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য”-এর চূড়ান্ত বার্তা হলো একটি সমন্বয় ও আত্মশক্তির জাগরণ। বিবেকানন্দ কোনো সভ্যতাকেই চূড়ান্তভাবে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট বলে চিহ্নিত করেননি। তিনি একটি সংশ্লেষণের পথ দেখিয়েছেন:

  • ভারতের করণীয়: ভারতকে পাশ্চাত্যের কাছ থেকে তাদের কর্মোদ্যম, সংগঠন-শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ঐহিক জীবনের প্রতি মনোযোগ শিখতে হবে। কিন্তু এই গ্রহণ প্রক্রিয়াটি হতে হবে নিজস্ব জাতীয় চরিত্র ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি অক্ষুণ্ণ রেখে। অন্ধ অনুকরণ জাতির বিনাশ ডেকে আনবে।
  • পাশ্চাত্যের শিক্ষণীয়: পাশ্চাত্য ভারতের কাছ থেকে আধ্যাত্মিকতা, অন্তর্দৃষ্টি এবং ত্যাগের মহিমা শিখতে পারে, যা তাদের ভোগসর্বস্ব ও জড়বাদী জীবনকে একটি নতুন মাত্রা দিতে পারে।

তাঁর চূড়ান্ত আহ্বান ভারতীয়দের উদ্দেশে: দুর্বলতা, জড়তা এবং আত্মগ্লানি ত্যাগ করে শক্তি ও সাহসের সঙ্গে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেদের স্বধর্ম পালন করে, শরীর ও মনকে শক্তিশালী করে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করতে হবে। তাঁর কথায়, “মানুষ হও”—অর্থাৎ, আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী এবং কর্মযোগী মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *